চার-পাঁচ দিন শাশুড়ি-শ্বশুরের সাথে থাকল।
তারপর স্বামী নীরজের সাথে তার কর্মস্থলে চলে গেল।
দুই বছর পর শ্বশুর অবসর গ্রহণ করলে তিনি এবং শাশুড়িও সুমন ও নীরজের সাথে গিয়ে থাকতে লাগলেন।
সুমন সারাদিন শাশুড়ি-শ্বশুরের চাহিদার খেয়াল রাখত, ঠিক যেমন বাপের বাড়িতে তার মা তার ঠাকুরমার খেয়াল রাখতেন।
কিন্তু একদিন সুমন শুনল, শাশুড়ি শ্বশুরকে বলছেন, “সুমন আমাদের দুধে জল মিশিয়ে দেয়।”
সুমন এর একটি সমাধান বের করল।
সে কোনো না কোনো বাহানায় দুধের পুরো পাত্রটাই শাশুড়ির কাছে নিয়ে যেত এবং সেখানেই গ্লাসে ঢেলে তাদের দিত।
তারপর একদিন শাশুড়ি ফোনে নিজের মেয়েকে বলছিলেন, “সুমন আমাদের খাঁটি ঘি খুব কম দেয়। শুধু উপরে উপরে একটু দেখানোর জন্য দেয়।”
সুমন তার পরের দিনই খাঁটি ঘিয়ের পুরো কৌটোটা শাশুড়ি-শ্বশুরের ঘরে রেখে দিল!
এই বলে যে, “আমি অনেক সময় বাড়িতে থাকি না, তাই আপনাদের খুঁজতে কষ্ট হয়। এটা শেষ হয়ে গেলে অন্য একটা এনে রেখে দেব!”
কিছুদিন পর শাশুড়ি শ্বশুরকে বলছিলেন, “নীরজ এত ফল আনে। আমাদের তো একটুখানি দেয়। বাকি সব বোধহয় নিজেই খেয়ে ফেলে!”
সুমন তা শুনে পরের দিনই ফ্রিজটা শাশুড়ি-শ্বশুরের ঘরে রাখিয়ে দিল। বলতে লাগল, “আপনাদের জল, দুধ, ফল নেওয়ার জন্য অত দূরে যেতে হবে না। এই বয়সে অতদূর হেঁটে যেতে আপনাদের কষ্ট হয়। আমি এখান থেকেই এসে নিয়ে যাব…!”
সুমন চলে যাওয়ার পর শ্বশুর বললেন, “এখন তো ঠিক আছে? সবকিছু তো তোর ঘরেই এনে রেখে দিল সুমন…!”
“এসব তো ঠিক আছে গো, কিন্তু আমার সন্দেহ হয়, কোনো না কোনো কারচুপি নিশ্চয়ই করছে— শেষ পর্যন্ত বৌমা তো!”
⛔⛔⛔⛔⛔⛔
শ্বশুর বললেন, “কারচুপি ও করছে না। কারচুপি তোর মাথায়! কারণ তুই নিজে যেমন বৌ ছিলি, নিজের বৌমার ব্যাপারেও তেমনই ভাবছিস…!”
সন্দেহের কোনো চিকিৎসা তো কারও কাছেই নেই!
শ্বশুর বলেই যাচ্ছিলেন আর শাশুড়ির বিবেক তাকে বলছিল যে হয়তো এটাই সত্যি।
এমন শাশুড়িদের কারণেই তো বৃদ্ধাশ্রমগুলো জমে উঠেছে!









