এমডি রেজওয়ান আলী বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি- সংগ্রাম, আন্দোলন, রাজনৈতিক উত্থান পতন,নানা সংকট ও চড়াই উতরাই পেরিয়ে ৪৮ বছরে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলবিএনপি। আজ ১ সেপ্টেম্বর,দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী,১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতীয়তাবাদ,বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের নিজস্ব রাজনৈতিক সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে দলটি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। বিএনপির নিজস্ব ইতিহাসে দলটির প্রতিষ্ঠাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলটির নেতৃত্বে আসেন তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ২০২৬ সালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচিতে শহীদ জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বলে দলীয় কর্মসূচিতে জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ, বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। সারাদেশের জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং দলটির বিভিন্ন ইউনিটকে নিজ নিজ সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূলেও ব্যাপক প্রস্তুতি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা,মহানগর,উপজেলা ও পৌর এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কোথাও আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল,র্যালি,বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণের মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচির ধরন ও সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে। দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন,৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা বিএনপির জন্য যেমন গৌরবের,তেমনি এটি আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটি যেমন রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেছে,তেমনি বিরোধী দল হিসেবেও আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছে। রাজনীতিতে বিএনপির দীর্ঘ পথচলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে দলটির ভূমিকা ছিল আলোচিত। জাতীয় নির্বাচন, সরকার পরিচালনা,বিরোধী দলের রাজনীতি,বিভিন্ন গণআন্দোলন এবং রাজনৈতিক সংকটে বিএনপির অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে রয়েছে। দলটির ৪৮ বছরের পথচলায় যেমন রাজনৈতিক সাফল্য এসেছে, তেমনি এসেছে নানা প্রতিকূলতা ও সংকট। এসব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিএনপি বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন প্রত্যাশা,নতুন অঙ্গীকার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে দলের আদর্শ,রাজনৈতিক লক্ষ্য ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগঠনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে দলের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তিনি বিএনপির দীর্ঘ পথচলাকে সাহস,সংগ্রাম,ত্যাগ ও সাফল্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় ধরনের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ। দলীয় ঐক্য সুসংহত রাখা, তৃণমূলকে আরও কার্যকর করা, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা এসব বিষয় আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ৪৮ বছরে যে প্রত্যাশা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা দলটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন,অর্থনৈতিক অগ্রগতি,সুশাসন,আইনের শাসন এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয় গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে। ৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দীর্ঘ সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতাকে কীভাবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণের কার্যকর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া যায়। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর নানা আয়োজনে তাই শুধু অতীতের গৌরবগাথা নয়,বরং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা ও অঙ্গীকারও উঠে আসছে। ৪৮ বছর পেরিয়ে বিএনপির এই পথচলা আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে নতুন কোন অধ্যায় তৈরি করে সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষ।
Post Views: 87
Related