আমার তিন বছরের একটি রিলেশনশিপ ছিল। আমি তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে আমাকে বিয়ে করেনি। বাধ্য হয়ে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করি।।
কিন্তু আমার বিয়ের পর থেকে আমার এক্স নানা ভাবে আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে এবং আমার স্বামীকে হুমকি–ধমকি দিতে থাকে। তার এসব আচরণের কারণে আমার প্রথম সংসার টেকেনি—সংসার ভেঙে যায়।
সংসার ভাঙার পর আবার সেই এক্স আমার কাছে ফিরে আসে। সে ক্ষমা চেয়ে, ভালোবাসার ভান করে, আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যায়। এক বছরের সম্পর্কের পর আমরা বিয়ে করি।
কিন্তু বিয়ের পরই জানতে পারি—সে আগেই আরেকটি বিয়ে করেছে, তার একটি স্ত্রী আছে যিনি ঢাকায় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। সে সবকিছু আমার কাছে গোপন করেছিল।
এই নিয়ে আমাদের মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে। সে মানসিক নির্যাতন তো করতই, প্রয়োজনে গায়েও হাত তুলত। চার মাসের মাথায় সে আমাকেই তালাক দিয়ে দেয়।
এরপর আমি ছোটখাটো একটি চাকরি শুরু করি। সেখানে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়—যার বয়স আমার চেয়ে ১৬ বছর বেশি। তাকে আমি আমার অতীত সব খুলে বলি। আমি সম্পর্ক চাইনি—সরাসরি বিয়ে চাই।
সে আমাকে আশ্বস্ত করে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, এবং পরবর্তীতে বিয়েও করে। কিন্তু বিয়ের পর দেখি তার বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
সে শারীরিকভাবে অক্ষম—রাতে আমাকে দিয়ে হাত–পা টিপিয়ে রাখত।
বাসার রান্না, সংসারের সব কাজ, তার আগের স্ত্রীর রেখে যাওয়া বাচ্চাদের দেখাশোনা—সব দায়িত্ব আমার উপর চাপিয়ে দেয়।
সময় যেতে যেতে আমাকে একদম কাজের মানুষের মতো ব্যবহার করতে শুরু করে।
অবশেষে আমি সেখান থেকেও বেরিয়ে আসি—তালাকের মাধ্যমে।
এরপর সিদ্ধান্ত নিই—একা থাকব, নিজের জীবনটা নতুন করে দাঁড় করাবো।
কিন্তু এই সময় আবার আমার সাবেক প্রেমিক—যার কারণে আমার প্রথম সংসার ভেঙেছিল—সে আমার জীবনে ফিরে আসে।
সে ক্ষমা চেয়ে, মায়া দেখিয়ে, আমাকে আবারও ম্যানিপুলেট করতে শুরু করে।অনবরত যোগাযোগ, অতিরিক্ত কেয়ার, নানাভাবে আমাকে তার জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করে।
সে জানায়, তার প্রথম স্ত্রীকে নাকি তালাক দিয়েছে এবং এবার সত্যিকারের বিয়ে করতে চায়।
তার কথায় বিশ্বাস করে আমি আবার তার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি।
সে আমাকে বিয়ে করে—কিন্তু কোনো কাবিন ছাড়া। আমরা একসাথে থাকতে শুরু করি।
ধীরে ধীরে জানতে পারি—সে এবারও মিথ্যা বলেছে। তার প্রথম স্ত্রীকে সে তালাক দেয়নি, এখনও সংসার করছে।
আমাকে আবার প্রতারণা করে নিজের সুবিধামতো ব্যবহার করেছে।
আমি এখন প্রে_গনেন্ট।
আমি বারবার বলছি—কাবিন করতে।
কিন্তু সে কোনোভাবেই কাবিন করতে রাজি নয়।
উল্টো মিথ্যা গুজব ছড়ায়।
এ অবস্থায় আমি কী পদক্ষেপ নিতে পারি—সেটা জানতে চাই।
আমি কি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারব?
আমার ও আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য সঠিক পথ কোনটি?
–সুনিয়া









