আমার প্রথম হাজবেন্ড ছিলো ডমিনেটিং। চাকরি-বাকরি করতে দিবে না। হাতে টাকা ১ হাজার দিতো হাতখরচ। তবে তার ভালো দিক ছিল—সে আমাকে ঘুরতে নিতো, রেস্টুরেন্টে খাওয়াইতো, একটা জিনিস পছন্দ করে কিনে নিয়ে আসতো। যাই হোক, তার আর তার পরিবারের কিছু ছোটলোকির কারণে শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স হয়ে যায়।
বর্তমান বিয়েটা আমার লাভ ম্যারেজের। ও আমারই ক্লাসমেট ছিল। এখন আসি মূল কথায়—২ জন একই স্কুলের ২টা ব্রাঞ্চে জব করি। আমি সেলফ-ডিপেন্ডেড হয়েও শান্তি পাচ্ছি না। আমার চাকরির মূল উদ্দেশ্য ছিল, যাতে সেলফ-রেসপেক্টের সাথে বাঁচতে পারি; নিজের ছোট ছোট শখ, চাহিদা পূরণ করতে পারি; নিজের পরিবারে কন্ট্রিবিউট করতে পারি। কিন্তু চাকরি হয়ে এখন হয়ে গেছে বেসিক নিডস পূরণের অবলম্বন।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে, বিয়ের পর ১ম ইদে আমি নিজের টাকায় নিজের জন্য শপিং করেছি। সে বিয়ের পর থেকে তার টাকায় কিছুই দিতে পারে না। বিয়ের ৬ মাস চলে। বাপের বাড়ি থেকে আনা জামা-কাপড়ই পরে যাচ্ছি। আমি অপ্রয়োজনীয় খরচ করি না, করাইও না; ওর কাছে কিছু চাইও না। কিন্তু আমারও যে মন আছে, সেটা ও ভুলে গেছে।
আমি সেলারির টাকা তুলে আনি। সেই টাকা থেকেই সে মাসের সব খরচ করতে থাকে। সে আমার বার্থডে সেলিব্রেট করেছে—কিনে আনা কেকটাও আমার টাকায়। আমাকে ঘুরতে নিয়ে যায়, রেস্টুরেন্টে খাওয়ায়—বাহবা নেয়; তবে সেটাও আমারই টাকায়। সে শুধু বাসা ভাড়া দেয়, তার ভার্সিটির ফি দেয়, বাড়িতে কয়েক হাজার পাঠায়; এরপর তার টাকা শেষ।
খুব কষ্ট হয় আমার। নিজের জন্য ২টা টাকা খরচ করে একটা জামা, একটা ক্রিম পর্যন্ত কিনতে পারি না। অনলাইনে কত কী দেখি—কিনতে মন চায়, কিন্তু কিনতে পারি না। আমি হাজবেন্ডের টাকায় কোনো কিছু কিনার যে আনন্দটা, সেটা থেকে বঞ্চিত। সব সহ্য করে মুখে ফেইক স্মাইল নিয়ে চলি। সে শুধু বলে—আরো বেশি আর্ন করতে হবে, সঞ্চয় করতে হবে, এই-সেই। কখনো এক মুঠো চুড়ি নিজ থেকে কিনে এনে হাতে দেয়নি।
সেলফ-ডিপেন্ডেডরা কি এভাবেই সব কিছু থেকে বঞ্চিত হয়, নাকি আমারই কপালটা এমন।
(—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক )









