স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়,সরিষাবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর রেলওয়ে ক্রসিং থেকে যমুনা সার কারখানার জেটি ঘাট ১ (এক) থেকে দেড় কিলোমিটার সড়ক যমুনা সার কারখানার মালিকানাধীন।আর এই সড়কের পাশ দিয়ে বিশাল আকারে পাহাড়ের মতো স্তুপ করা হয়েছে বালু। আওনা চর,স্থল পশ্চিম পাড়া এলাকায় যমুনা নদী থেকে ১৫-১৬ টি খনন যন্ত্র (ড্রেজার মেশিন) দিয়ে পাহাড়ের চূড়ার মতো বালুর স্তুপ করা হচ্ছে অবৈধভাবে। প্রতিটি ড্রাম ট্রাকে ৬’শ থেকে ৮’শ বালু ভর্তি করা হয় যা ২ হাজার ৪শত থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
বালু উত্তোলন একদিকে যেমন পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও জমিতে ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় পরিবেশ ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। এর জন্য প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন পরিবেশকর্মীরা। প্রশাসনের নজর যেন এদিকে নেই বললেই চলে। আবার মাঝে মাঝে অভিযান হলেও সেটিকে লোক দেখানো অভিযান বলে জানায় এলাকাবাসী। কারণ অভিযানের খবর চলে যায় বালু ব্যবসায়ীদের কানে। ফলে তারা সরে যান। ফলে এই অযুহাতে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনা প্রশাসন।
নদীর মাঝে অবৈধ ‘মিনি ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালি উত্তোলন করছেন তারা হলেন শাহাজামাল,রহিম,হায়দর,বাবু,সা
অপরদিকে দৌলতপুর রেলওয়ে ক্রসিং থেকে যমুনা সারকারখানার জেটি ঘাটের সড়কটি সার পরিবহন ও মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য হলেও বতর্মানে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।সড়কটি দিয়ে দৈনন্দিন দুই শতাধিক ড্রাম ট্রাক চলাচল করে । চলাচলের ফলে রাস্তায় বালু পড়ে স্তর পড়ে যাওয়ায় পায়ে হেঁটে, মোটর সাইকেল,সাইকেল,ভ্যান দিয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুকনো সময়ে ধুলা বালুর বাতাসে মিশে শরীরের লেগে কাপড় চোপড় ময়লা সহ বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবানু ছড়িয়ে পড়ায় এই অঞ্চলের মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে।
ভ্যান চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, দৌলতপুর রেলওয়ে ক্রসিং তিন রাস্তার মোড় থেকে জেটি ঘাট পর্যন্ত পিচ ঢালা রাস্তা। আর রাস্তায় বছর খানেক আগে যমুনা সার কারখানার সার পরিবহনের জন্য প্রায় অর্ধকোটি ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার করা হয়। বর্তমানে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের কারণে সড়কটি ভেঙ্গে যাচ্ছে। এতে চলাচলে দূর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে আমাদের।
স্থল এলাকার আজিজুল হক বলেন,নেতারা মেশিন লাগাইয়া বালু তুলতাছে। সাধারণ মানুষ রা সাহস পাবো ব্যবসা করবার। ওরাই করে ,ওগোরে দূরে মেশিন লাগাইয়া মাটি তুলবার কয়লে অনেক হুমকি দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন,আমার ৩ বিঘা জমিতে ভুট্রার আবাদ হয়েছে। দিন দিন মেশিনে মাটি কাটায় খেত আমার দউ হয়ে গেছেগা। কিছু কইতে গেলে এলাকার থাকবার দিব না। পুরাতন ঘাট বাজারে যাবার দিবনা। বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়,যা বলার মতো না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক কৃষক বলেন,যারা মাটি তুইলা বেচতাছে মুরাদ এমপির লোক। এগোরে কিছু কইবার গেলে যমুনা সার কারখানার রাস্তা দিয়ে যাবারতো দিবোই-নে,এলাকায় থাকা মুশকিল হয়ে যাবো।
বালু ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজনের জানান,সরিষাবাড়ীর প্রভাবশালী এক কাউন্সিলের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমঝোতায় এসব বালু তোলা হচ্ছে । তিনি সকল কিছু ম্যানেজ করেন।
যমুনা সার কারখানার সড়ক ব্যবহার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কারখানার জিএম দেলোয়ার হোসেন এর সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমাদের সার পরিবহনে সড়কের যে পরিমাণ ক্ষতি না হয় তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে বালু পরিবহনে। এসব বন্ধে ডিসি,এসপি,উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছি কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জামালপুর -৪ সরিষাবাড়ী আসনের সংসদ সদস্য ডাক্তার মুরাদ হাসান এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করিলে নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে সরিষাবাড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলে লোক বেশি করে নিয়ে যেতে হবে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে আসছি । দু একদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা প্রশাসক শ্রাবস্তী রায় এ প্রতিবেদক মাসুদুর রহমানকে সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি । অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য
,এই বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উপজেলার পুরাতন ঘাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর উপর হামলা ও বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ সহ পিংনা ইউনিয়নে একাধিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
ক্স এসব বন্ধে ডিসি,এসপি,উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেও কোন প্রতিকার হয়নি।








