প্রেস রিলিজ
প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী রত্না মিত্রর কন্ঠে কবি পঙ্কজ সাহা ও কবি বিধান চন্দ্র পালের পরিবেশ বিষয়ক কবিতা আবৃত্তির সংকলন প্রকৃতির ঋণশোধ
আজ (২২ আগস্ট, ২০২৩) রবীন্দ্রগানের চার জ্যোতিষ্ক সুচিত্রা, কণিকা, জর্জ ও হেমন্তকে শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতা শিশির মঞ্চে এক বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। টেগোর সোসাইটি কলকাতা ও দেবব্রত বিশ্বাস স্মরণ কমিটির আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। মূলত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রবীন্দ্র শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম সুচিত্রা মিত্র ও কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শততম জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করেই এই বিশেষ আয়োজনটি করা হয়েছে।
আয়োজনের এক পর্যায়ে প্রকাশিত হবে বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী রত্না মিত্রর কন্ঠে কবি পঙ্কজ সাহা ও কবি বিধান চন্দ্র পালের পরিবেশ বিষয়ক কবিতা আবৃত্তির সংকলন ‘প্রকৃতির ঋণশোধ’।
মানুষ প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতি মানুষের জন্ম দিয়েছে, প্রকৃতি মানুষকে লালন-পালন করে। বেঁচে থাকার যা কিছু প্রয়োজন তা আমরা প্রকৃতির কাছ থেকেই পাই। মূল সমস্যা হচ্ছে আমরা যে প্রকৃতিরই অংশ, তার বাইরে নই, সে কথাটাই মানুষ ভুলে গেছে। এতোদিন যেন প্রকৃতিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হয়েছে, আর প্রকৃতি বিশারদ এবং পরিবেশবিজ্ঞানীরা এখন বলতে চাইছেন- প্রকৃতিকে বন্ধু হিসেবে দেখো। কিন্তু যদি এই বোধটুকু মানুষকে যদি ফিরিয়ে দেওয়া যায় যে, আমরা প্রকৃতির থেকে কোথাও আলাদা নই, আমরা প্রকৃতিরই একটা অংশ, প্রকৃতি বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হলে নিজেদেরই ক্ষতি করছি আমরা। এই অমোঘ সত্যটিই কবিতার মাধ্যমে এই অ্যালবামে প্রকাশিত হয়েছে।
অ্যালবাম প্রকাশ অনুষ্ঠানে আবৃত্তিশিল্পী রত্না মিত্র, কবি পঙ্কজ সাহা ও কবি বিধান চন্দ্র পাল উপস্থিত থাকবেন। এ সময় সংস্কৃতিজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে আরো উপস্থিত থাকবেন- তুষার তালুকদার, যোগেন চৌধুরী, সুবীর মিত্র, ডাঃ প্রবুদ্ধ ঘোষ, ডাঃ হিরন্ময় ঘোষাল, গৌতম ঘোষ, ড. স্বপ্না ঘোষাল, রবীন মুখোপাধ্যায়, অমল বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্বাদল চট্টোপাধ্যায়, রীণা মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
দুই বাংলা ও দুই প্রজন্মের মেলবন্ধন রচিত হবে এই অ্যালবামের মধ্য দিয়ে সেটাই আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাহার মিউজিক এর পক্ষ থেকে এর কর্ণধার বরুণ কান্তি চট্টোপাধ্যায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। অ্যালবামের শব্দগ্রহণ ও আবহ সঙ্গীতে ভূমিকা পালন করেছেন প্রণব দত্ত। অ্যালবামে পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ক বিধান চন্দ্র পালের লেখা ১৪টি কবিতা ও পঙ্কজ সাহার ১৮টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, টেলিভিশন ও বেতার সম্প্রচার এবং সাহিত্য সংস্কৃতি জগতে দুই বাংলার এক প্রিয় নাম কবি পঙ্কজ সাহা। তিনি বিবিসি লণ্ডনের প্রাক্তন/ সাবেক প্রযোজক। রাঁচি, শান্তিনিকেতন এবং কলকাতা দূরদর্শন কেন্দ্রের প্রাক্তন ডিরেক্টর। কিশোর বয়স থেকেই তিনি কবিতা রচনা ও আবৃত্তিচর্চা শুরু করেন। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষে সারা বাংলা আন্তঃস্কুল কবিতা রচনা প্রতিযোগিতায় তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত এবং দীনেশ দাস-এর বিচারে প্রথম পুরস্কার লাভ করেন। এখন পর্যন্ত তাঁর লেখা ২০টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থ ইংরেজীসহ বিভিন্ন ভাষাতেও অনূদিত হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আকাশবাণীর পক্ষ থেকে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তাঁর এই অবদানের জন্যে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার দিয়েছে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। আজকে আবৃত্তি যে এক জনপ্রিয় শিল্প হয়ে উঠেছে তার প্রচলন করেন তিনিই। এখন দুই বাংলায় আবৃত্তি যে একটি শিল্পরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার সূচনা করেন পঙ্কজ সাহাই। শুধুমাত্র আবৃত্তির পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠান, আবৃত্তি নিয়ে সংগঠন, আবৃত্তির শিক্ষাদান প্রচলন, বৃন্দ/ কোরাস আবৃত্তির প্রচলন, বিষয়ভিত্তিক আবৃত্তি, আবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গীত, আলো, কস্টিউম এবং একশনের প্রচলন করেন তিনি ১৯৭০ সালে। এ অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়। চার দিনব্যাপী আবৃত্তির প্রথম উৎসব তিনিই করেন ১৯৭২ সালে। তাতে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত কবি এবং শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।
বিষয়ভিত্তিক কবিতা রচনায় পারদর্শি কবি বিধান চন্দ্র পাল কবিতা লেখেন ছোটবেলা থেকেই। তিনি একজন স্বনামধন্য আবৃত্তিকার, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রবন্ধ লেখক ও গবেষক। এখন পর্যন্ত তাঁর আটটি কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখা দুটি গ্রন্থ ইংরেজী ভাষাতে অনূদিত হয়েছে। তাঁর লেখা দুটি কবিতাগ্রন্থ অবলম্বন করে ভারতের বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পীদের পরিবেশনায় দুটি আবৃত্তির অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ প্রভা অরোরা‘র প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন, যে প্রতিষ্ঠানটি ইউনেস্কো ও ইউনেপ দ্বারা স্বীকৃত বিশ্বের সর্ববৃহৎ পরিবেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান FEE-এর বাংলাদেশের ন্যাশনাল অপারেটর হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
আর রত্না মিত্র সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হবে- অনুভূতিহীন কন্ঠের কারুকৃতি নয়,অনুভূতি প্রদেশের আলোক প্রজ্জ্বলনই তাঁর বাচিকশিল্প সাধনের হেতু। ধ্রুপদী ও সমকালীন বাংলাকবিতা বিশেষভাবে চিহ্নিত হয় স্বতন্ত্রধারার আবৃত্তিশিল্পী রত্না মিত্রের অনুভবী উপস্থাপনায়। তিনিই পারেন ‘বাংলার কত কথা-য় কাঁটাতারের চেনা বিচ্ছেদ ঠেলে দ্রোহ প্রেমের উচ্চারণে দু’বাংলাকে সংহত দৃঢ়তায় সংযুক্ত করতে। কবি শঙ্খ ঘোষ, অরুণ মিত্র,বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়ের প্রযত্ন ও পছন্দের মেধাবিনী এই আবৃত্তিকার চার দশকেরও বেশি একনিষ্ঠ আছেন বাচিকচর্চায় আকাশবাণী, দূরদর্শন ও নানা বৈদ্যুতিন মাধ্যমের শ্রোতা দর্শকদের কাছে তিনি বিশেষভাবে চিহ্নিত তিন দশকের বেশি। ৭০-এর দশকের গোড়ায় পঙ্কজ সাহা ইন্সটিটিউট অব অডিও ভিসুয়াল কালচার প্রতিষ্ঠার করে যে আবৃত্তি আন্দোলনের সূচনা করেন, তাতে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন রত্না মিত্র। তাঁর বহু সফল উপস্থাপনার কেন্দ্রে আছেন রবীন্দ্রনাথ। বাংলা সংস্কৃতির এই বিশিষ্টজন শুধু একজন কৃতী বাচিক শিল্পীই নন,বাচিক শিল্পচর্চার দায়িত্ববান প্রশিক্ষকও।
আন্তরিক কৃতজ্ঞতাসহ-
বিধান চন্দ্র পাল
(এ মুহূর্তে কলকাতা থেকে)
ঢাকা, বাংলাদেশ








