বিপিএলে টস জয় মানেই ম্যাচ জয়- এটা প্রতিষ্ঠিত সত্যে রূপ নিতে যাচ্ছিলো। অন্তত এবারের বিপিএলে ঢাকা পর্বে যতগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সবগুলোতেই জয় পেয়েছে টস জিতে ফিল্ডিং নেয়া দলগুলো। কিন্তু এই প্রথম বিপিএলে জয় পেয়েছে প্রথমে ব্যাট করা খুলনা টাইগার্স। রংপুর রাইডার্সকে তারা হারিয়েছে ২৮ রানের ব্যবধানে।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রান সংগ্রহ করেছিলো খুলনা টাইগার্স। জবাব দিতে নেমে ১৮.৪ ওভারে অলআউট হয়ে যায় রংপুর। টানা তিন ম্যাচে জয় পেলো এনামুল হক বিজয়ের দল।
শেষ ১২ বলে রংপুর রাইডার্সের প্রয়োজন ছিল ৩৭ রান। মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রের করা প্রথম বলেই মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারেন মোহাম্মদ নবি। তবে চতুর্থ বলেই আউট হয়েছেন তারকা এই ব্যাটার। গালিতে দাঁড়িয়ে আফিফ হোসেন ক্যাচ নিতেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় খুলনা টাইগার্সের। রংপুরকে ২৮ রানে হারিয়ে হ্যাটট্রিক জয় তুলে নিলো এনামুল হক বিজয়ের দল।
মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরের। তারা দলীয় ৬ রানেই হারায় বাবর আজমের উইকেট। পাকিস্তানি এই ব্যাটার স্বদেশী ওয়াসিম জুনিয়রের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হয়েছেন। ওয়াসিমের করা গুড লেংথের বলে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন বাবর। তবে ব্যাটে লাগেনি। বল সোজা আঘাত হানে প্যাডে। আম্পায়ার আউট দিয়ে দেন। তবুও রিভিউ নিয়েছিলেন বাবর। তবে রক্ষা হয়নি। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বলের অল্প অংশ লেগ স্টাম্প স্পর্শ করেছে। পিচিং এবং ইম্পেক্ট দুটোই ছিল লাইনে। ফলে ফিরতে হয় বাবরকে।
এরপর বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি ব্র্যান্ডন কিং। ফরচুন বরিশাল ও সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে রানের খাতাই খুলতে পারেননি কিং। খুলনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক ডাকের শঙ্কা ওড়ালেও এক রান করে ফিরতে হয়েছে তাকে। মোহাম্মদ নাওয়াজের ফুলার লেংথের বলে লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন তিনি। মাত্র ১১ রানে ২ উইকেট হারে ধুঁকছে রংপুর।
একপ্রান্ত আগলে রাখা রনি তালুকদারকে আউট করেছেন দাসুন শানাকা। লঙ্কান এই পেসারের বলে লং অফ দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন রনি। সীমানায় থাকা মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ডাইভ দিয়ে দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন। এরপর মোহাম্মদ নাওয়াজ আউট করেছেন দারুণ খেলতে থাকা শামীম পাটোয়ারিকে। ডিপ স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ নিয়েছেন নাহিদুল ইসলাম।
আজমতউল্লাহ ওমরজাই আউট হয়েছেন চড়াও হতে গিয়ে নাসুম আহমেদের ওপর। লং অফে তার দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন মেহেদী হাসান। দাসুন শানাকার ডিরেক্ট থ্রুতে রান আউট হয়েছেন ১ রান করা নুরুল হাসান সোহান। এদিন ৭ নম্বরে খেলতে নেমে ব্যর্থ হয়েছেন সাকিব আল হাসানও। তিনি শানাকার করা অফ স্টাম্পের বাইরের লাফিয়ে ওঠা বলে জায়গা করে খেলতে চেয়েছিলেন। তবে তা ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষক এনামুল হক বিজয়ের হাতে।
রান তোলার চাপে দ্রুত আউট হয়েছেন শেখ মেহেদীও। শানাকার স্লোয়ার ডেলিভারিতে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সীমানার কাছে ক্যাচ দিয়েছেন ১২ রান করা এই ব্যাটার। একই ওভারে টানা দুই বলে দুই চার মারা রিপন মণ্ডলকেও ফিরিয়েছেন শানাকা। শেষ দিকে ৫০ রান করা নবিকে বিদায় করে খুলনার জয়








