(১)
কারিনা কায়সার মারা গেছে। কারো মৃত্যুই আনন্দের খবর নয়। কারিনার মৃত্যুও নিশ্চয়ই কোন উল্লাসের বিষয় নয়। তথাপি কিছু লোকজন কারিনার মৃত্যুতে ব্যঙ্গ রসিকতা ও উল্লাস ধরনের পোস্ট লিখছেন ফেসবুকে। আমি কারো মৃত্যুতে উল্লসিত হই না, উল্লাস করিও না, এটা আমার স্বভাব নয়। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে অপরের মৃত্যুতে মানুষকে উল্লসিত হতে আমি দেখেছি। মানুষের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্বজন ও সমর্থকরা যখন কেঁদেছে সেইগুলি নিয়ে ব্যঙ্গ করতে দেখেছি। মানুষের মৃত্যু বার্ষিকীতে গোটা জাতির একটা বড় অংশ যখন শোক উদযাপন করছে তখন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমি দেখেছি ভুয়া জন্মদিন বানিয়ে উৎসব করতে।
কারিনা কায়সার নিশ্চয়ই একজন সেলিব্রিটি। বিখ্যাত বাবার কন্যা, বিখ্যাত দাদীর নাতনী। নিজেও নাকি কুটুক তামাশা এইসব ধরণের ভিডিও তৈরি করে খ্যাতি অর্জন করেছিল। ওকে চিনতো অনেকে। ওর মৃত্যুতে অনেকে কেন উল্লাস প্রকাশ করছে, কারা করছে এইসব আপনারা জানেন। এইসব লোকে যে উল্লাস প্রকাশ করছে আমি কি ওদের নিন্দা করবো? করতে পারি, কারো মৃত্যুতে আপনি উল্লসিত হবেন নিন্দা ট করাই যায়। কিন্তু ১৫ই আগস্টে যে বেগম খালেদা জিয়া কেক কাটতেন সেটার কি হবে? বিএনপির বড় বড় নেতারা যে সেদিন উল্লাস প্রকাশ করতেন সেটার কি হবে? শেখ হাসিনার স্বজন হারানোর কান্না নিয়ে যে আপনারা কটু কথা বলেন সেটার কি হবে?
(২)
আওয়ামী লীগের কোন বড় নেতাকে আমি দেখিনি কারিনার মৃত্যুতে মন্দ কিছু বলতে। আওয়ামী লীগের সেরকম কাউকে আমি দেখিনি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে উৎসব করতে। এমনকি এই যে বেগম জিয়া মারা গেলেন সেদিন, তখন তো আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবেই শোক জানিয়েছেন। কিন্তু সেই ১৯৯২ থেকে বেগম জিয়া যে ১৫ই আগস্টে উৎসব শুরু করেছেন সেটা কি থেমেছে? রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বা ওদের সমর্থক কেউ মারা গেলে উল্লসিত হওয়া, বাংলাদেশে এই সংস্কৃতি কি ১৯৭৫এর আগে ছিল?
শোনেন, আমি কটু কথা, নিচু ধরণের আচরণ এইগুলি সহ্য করি না। গালাগালি তো মোটেই নয়। আমার জন্যে এইগুলি রেডলাইন। আরেকটা আছে রেডলাইন- সাম্প্রদায়িকতা। যদি চান আমি আপনাকে তালিকা দিতে পারি কতজনকে আমি রেডলাইন ক্রস করার কারণে আনফ্রেন্ড করেছি। বড় বড় লোকজন, ক্ষমতাধর লোকজন। একটা কম বয়সী মেয়ের মৃত্যুতে জীবিত অবস্থায় সে কি মন্দ কাজ করেছে সেটা মনে করে উল্লসিত হওয়া, এটাও কোন ভাল কাজ নয়। কিন্তু এই মন্দ সংস্কৃতিটা তো আপনারাও চর্চা করেন।
(৩)
আজ সকালে দেখলাম আমাদের ফিরোজ আহমেদ আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকজনকে নাম ধরে ওদের ফেসবুক পোস্ট তুলে ধরে ওদের নিন্দা করেছেন। তাঁর কথাগুলি এমনিতে ঠিক আছে, ভাল কথা। কিন্তু ফিরোজ আহমেদকে জিজ্ঞাসা করেন তো, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যেসব লোক কটু কথা বলেছে বা গালাগালি করেছে গত দুই বছরে ওদের কারো প্রতি এইরকম নিন্দা করেছেন? শেখ হাসিনা সম্পর্কে অশ্লীল গালাগালি যেসব হয়েছে সেগুলির নিন্দা কখনো করেছেন? ফেসবুক এসেছে সেটাও তো প্রায় দুই দশক হয়ে গেল, নিজের ফেসবুক খুঁজে দেখেন তো ১৫ই আগস্টে কোনদিন কি ফিরোজ আহমেদ নিঃশর্ত শোক প্রকাশ করেছেন? করেননি।
না, ঐটা করেননি বলে এটা করতেন পারবেন না সেই যুক্তি দিচ্ছি না। এগুলি বলছি তার কারণ হচ্ছে বছরের পর বছর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অশ্লীল অশ্রাব্য গালাগালি শুনেছে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। দল ক্ষমতায় ছিল ভাল কাজ করেছে কি মন্দ কাজ করেছে সেই আলোচনা তো আছেই- কিন্তু তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখনও কি শেখ হাসিনা সম্পর্কে গালাগালি কম করা হয়েছে? আওয়ামী লীগের সমর্থকরা সেগুলি শোনেনি? বাঁশের কেল্লা ধরণের পেইজ খুলে বিপুল ব্যয় করে বিশেষজ্ঞ ধরণের লোকজন বসিয়ে গালাগালির মচ্ছব চলেছে। কি করেছেন আপনারা? আপনারা আওয়ামী সমর্থকদের প্রতিক্রিয়াকে আক্রমণ করেছেন।
(৪)
শোনেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এখন টুকটাক যেটুকু গালিগালাজ করছে সেগুলি হচ্ছে ওদের প্রতি ওদের নেত্রীর প্রতি ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি আপনারা যেসব অসম্মানজনক আচরণ করেছেন সেগুলি প্রতিক্রিয়া মাত্র। একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি যদি একজন চোরকেও গালি দেন, সে একবার সহ্য করবে দুইবার সহ্য করবে, হয়তো পনেরবার বা বিশবার সহ্য করবে- কেউ কেউ হয়তো পঞ্চাশ বা একশবারও সহ্য করবে। কিন্তু একটা পর্যায়ে সে পাল্টা গালি ঠিকই দিবে। আপনি বঙ্গবন্ধুকে কটু কথা বলবেন, শেখ হাসিনাকে গালি দিবেন, বত্রিশ নম্বরে গিয়ে বলবেন সেখানে টয়লেট বানাবেন- আওয়ামী লীগের লোকেরা কি করবে?
কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। কায়সার হামিদ, রানী হামিদ ওরা আমাদের ক্রীড়া তারকা, ওদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। ওদের পরিবারের এই কঠিন সময়ে সবাইকে অনুরোধ করি দয়া করে আর কটুবাক্য বলবেন না।
-Imtiaz Mahmood








