খুব ভালো প্রশ্ন। এর মাধ্যমে বেশ কিছূ শিক্ষার্থী তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সহজেই করতে পারবে। ইনশা-আল্লাহ।
প্রাচীন আমলে, মানুষ যখন গুহাতে বাস করতো, জঙ্গলের পশু শিকার করতো ; তখনও জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান চর্চার প্রচলন ছিলো। তবে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ধারনা এসেছে, মাত্র এক হাজার বছর আগে। উল্লেখ্য – বই মুদ্রণের যন্ত্র উদ্ভাবনের পরে, ১৫০০ সালের পর থেকে, পুর্ণমাত্রায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসার ঘটে।
এবার নিকটবর্তী অতীতের ব্যপারে কথা বলছি:
১৯৫০ সালে, ভারত বা বাংলাদেশের কেউ B.A. (ডিগ্রি) পাশ করলে, সেটা হতো পুরো গ্রামের জন্য গর্বের বিষয়। সেই সময় সাবজেক্ট বাছাই করা লাগতো না। শিক্ষিত হলেই ডিমান্ড হতো।
১৯৭০ সালে, ভারত বা বাংলাদেশের কেউ M .A. (মাস্টার্স) পাশ করলে, সেটা হতো পুরো গ্রামের জন্য গর্বের বিষয়। সেই সময়ও শিক্ষিত হলেই চলতো।
তবে, ১৯৮০ সালের পর থেকে খুব দ্রুত উচ্চশিক্ষিতের সংখা বাড়তে থাকে। মূলত, ১৯৯০ এর পর থেকেই, উচ্চশিক্ষা একটি সাধারন বিষয় হয়ে গেছে।
১৯৫০ সালে, পুরো গ্রামে মাত্র দুই-একজন উচ্চ-শিক্ষিত ছিলো। ওদিকে, ১৯৯০ সালের পর থেকে, প্রত্যেক বাড়িতে উচ্চ-শিক্ষিত পাওয়া যায়।
এত বেশী পরিমান মানুষ শিক্ষিত হবার কারনে, শিক্ষার তেমন কদর নেই। বিশেষ ধরনের ডিগ্রি না থাকলে, তেমন ডিমান্ড নেই।
বিভিন্ন যুগের চাহিদার কারনে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাবজেক্ট এর ডিমান্ড হয়েছে।
- ১৯৯০ পর্যন্ত Medical ও Engineering এর ডিমান্ড ছিলো
- ২০১০ পর্যন্ত Computer Sc. ও MBA ইত্যাদি ডিমান্ড ছিল
- বর্তমানে Electronics, Robotics, AI ইত্যাদির ডিমান্ড হয়েছে
ভবিষ্যতে কি হবে? কোন সাবজেক্ট এর ডিমান্ড হবে?
সেটা বুঝতে হলে, গত শতাব্দীর প্রযুক্তি দেখতে হবে। ১৯০০ থেকে ২০০০ এই একশো বছরে প্রযুক্তির কি উন্নতি ঘটেছে?
প্রথম দিকে যান্ত্রিক প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে, যেমন গাড়ী। এরপর ইলেকট্রিক প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে। যেমন লাইট, ফ্যান, ফ্রিজ ইত্যাদি। এরপর দূরবর্তী যোগাযোগ – টেলিফোন ও টেলিভিশন। এরপর এসেছে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, স্মার্ট-ফোন। বর্তমানে Robotix এবং AI চলছে।
কি বুঝলেন?
গত শতাব্দীতে, প্রথমে চলেছে যান্ত্রিক যুগ, এরপর ইলেট্রিক তারপর ইলেকট্রনিকস। এরপর চলেছে কম্পিউটার ও স্মার্ট-ফোন এর যুগ। এখন চলছে রোবট ও Ai এর যুগ।
ভবিষ্যত যুগ, অর্থাৎ – এখন থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত আসছে – Biology অর্থাৎ জীববিজ্ঞানের যুগ।
জেনেটিক গবেষণা, ভাইরাস ও ব্যকটেরিয়া বিষয়ক গবেষণা। উচ্চ ফলনশীল পশু ও ফসল এগুলোর গবেষণা ও ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।
আপনি যদি ভবিষ্যতের যুগে ডিমান্ড ধরে রাখতে চান, তাহলে জীববিজ্ঞান সম্পর্কিত যে কোন বিষয় লেখাপড়া করুন। যেমন – Biology, Biochemestry, Microbiology ইত্যদি।
বোনাস:
যে সাবজেক্ট গুলোর নাম লিখেছি, সেগুলো বেশ কঠিন। যারা আমার মতন পেছনের বেঞ্চের ছাত্র, তাদের জন্য এগুলো খুবই কষ্টকর হবে।
তাদের জন্য আমার পরমর্শ হলো – agriculture বা কৃষি বিষয়ক লেখাপড়া করুন। ভবিষ্যতের জীববিজ্ঞানের যুগে – কৃষিবিজ্ঞানের ভালো ডিমান্ড থাকবে।
আসলে, অদূর ভবিষ্যতে এমন যুগ আসবে, যখন ১০-১৫ একর জমি চাষাবাদ করা কৃষকেরা, শিল্পপতির চেয়ে বেশী ধনী হবে। আজকের উচ্চশিক্ষিতরা শিল্পপতির অধীনে চাকরি করে। ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষিতরা কৃষকের অধীনে চাকরি করবে।








