কলেজে লেখাপড়ার দিনগুলো মনে আছে? না থাক, কষ্ট করে মনে করার দরকার নেই। আমি সেটার কিছু অংশ মনে করিয়ে দিচ্ছি। দেখুন মিলে কিনা।
কলেজের ইংরেজি শিক্ষক সবাইকে লিখতে দিলেন – “গরুর চারটি পা আছে”, এর ইংরেজি লিখ। কলেজের অংক শিক্ষক বোর্ডে ১৫ × ৩ = ? লিখে সবাইকে অংক করতে বললেন। কলেজের আরেক শিক্ষক এসে – সপ্তাহের ৭ দিনের নাম জিজ্ঞাসা করলেন। আরেকজন শিক্ষক একটি কঠিন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন – এক বছরে কতগুলো দিন থাকে?
কি, ঘটনাগুলো মিলছে তো? আপনার কলেজে এসব পড়িয়েছিল। তাই না?
এবার আপনি নিশ্চয়ই বলবেন – দুর মিয়া, ফাইজলামী করেন কেন? এসব প্রাইমারী স্কুলের লেখাপড়া কলেজে থাকে নাকি?
হ্যাঁ, সেটাই বোঝাতে চাইছি। প্রাইমারী স্কুলের আর কলেজের লেখাপড়া এক নয়। কলেজে গিয়ে প্রাইমারী স্কুলের লেখাপড়া খোজাটা অনেক বড় বোকামী।
স্বামীর কাছে প্রেমিকার মতো হয়ে থাকার চেষ্টা করাটা ঠিক ওই কলেজে গিয়ে প্রাইমারী স্কুলের সিলেবাস খোজার মতন বোকামি।
ভুল বুঝবেন না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অবশ্যই প্রেম ভালোবাসা থাকবে। তবে, সেটা প্রেমিক-প্রেমিকার মতন নয়। তাদের ভালোবাসা আরো অনেক কঠিন, অনেক জটিল, অনেক গভীর।
রোম্যান্টিক নাটক-সিনেমা থেকে প্রেম ভালোবাসা শিখবেন না। পর্ন থেকে যৌনতা শিখবেন না।
নাটক-সিনেমাতে যেমন ন্যাকামি দেখেন, ওটা কোন প্রেম-ভালোবাসা নয়। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য হয়তো নাটক-সিনেমার প্রেম-ভালবাসা চলে। কিন্তু স্বামী স্ত্রীর জন্য ওসব ন্যাকামি একেবারেই অচল। দয়া করে সিনেমা থেকে শিখবেন না। সিনেমা জিনিসটা পুরোটাই নকল।
প্রেমিক-প্রেমিকা, একে অন্যকে তার ভালো অংশটা দেখায়। খুব অল্প সময়ের জন্য একে অন্যের পাশে থাকে। তাই দুজনেই ভালো হয়ে থাকে। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী একসাথে থাকে ২৪ ঘন্টা। তারা একে অন্যের খারাপ, বদ, নোংরা, সবকিছুই দেখতে পায়। একে অন্যের কাছে কিছুই লুকানো যায় না। ইচ্ছা করলেও, শুধুমাত্র ভালোটা দেখানো যায় না।
রান্নার সময়, দুটি চুলায় দুই হাড়ি। ওদিকে, বুয়াকে এটা ওটা ধুয়ে পরিস্কার করতে বলছেন। পুরো রান্নাঘর এলোমেলো হয়ে আছে। এমন ব্যস্ততার মাঝে, স্বামীর অনুরোধ, তার জন্য এক কাপ চা বানালেন। তারপর সেই চা তার সামনের টেবিলে ধপ করে রেখে, মুখ ঝামটা দিয়ে বলছেন – অসময়ে তোমার চা লাগে কেন। যতসব যন্ত্রণা।
আপনার এই রাগী আচরণের মধ্যে স্বামীর জন্য কতখানি ভালোবাসা লুকিয়ে আছে, সেটা আপনি জানেন, উনিও জানেন।
ওগো, হ্যগো, বাবু, সোনা, যাদু ইত্যাদি বলার ভেতরে ভালোবাসা খুজছেন। ওসব ন্যাকামি সিমেমায় মানায়। বাস্তব জীবন তেমন নয়। রাগ, অভিমান, হাসি, কান্না, আনন্দ, বেদনা সবকিছুর মধ্যেই একে-অপরের জন্য ভালবাসা আছে।
বিভিন্ন সুখে-দুঃখে আপনাদের দুজনে অনেকদিন ধরে একসাথে থাকাটাই ভালোবাসা। আপনাদের দৈনন্দিন জীবনটাই ভালোবাসা। এটাই আসল ভালোবাসা।
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা অন্য ধরনের। এর মধ্যে প্রেমিক-প্রেমিকার ওই বাবু-সোনা টাইপের ন্যাকামি খুজবেন না।








