পৃথিবীতে এমন কিছু প্রাণী আছে যাদের স্ত্রী প্রজাতিরা মিলনের পর পুরুষ সঙ্গীকে হত্যা করে খেয়ে নেয়।
যেমন, যৌন মিলনের পর স্ত্রী আনাকান্ডা প্রায়ই নিজের সঙ্গী অর্থাৎ পুরুষ অ্যানাকোন্ডাকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। দৈত্যাকার সাপের স্ত্রী প্রজাতিটি মিলনের পর পুরুষ সাপটিকে বাঁচিয়ে রাখতে চায় না। সঙ্গম শেষে নিজের শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ভবলিলা সাঙ্গ করে দেয় মিলনসঙ্গী পুরুষ সাপটির।
এই প্রজাতি সাপের ল্যাটিন নাম ইউনেক্টেস আকাইমা, অর্থ উত্তরের সবুজ সাপ। এই সাপের ওজন মানুষের প্রায় তিনগুণ। মোটা প্রায় গাড়ির টায়ার এর মত। এরা আমাজনের গভীর জঙ্গলে বাস করে। জল জঙ্গলের ত্রাস হিসাবে পরিচিত আমাজনের এই দানবাকৃতির সাপকে নিয়ে পৃথিবীতে রয়েছে নানা কিংবদন্তি। এই সাপটি আমাজনের মৃত্যু দূত হিসেবে পরিচিত।
এই প্রজাতির স্ত্রীর সাপের একটি বিরল ও ভয়ংকর আচরণ হল, মিলনের পর প্রায়ই নিজের সঙ্গী পুরুষ সাপটিকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। সঙ্গম শেষে নিজের শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে পুরুষ সাপটিকে মেরে তার মাংস খেয়ে নেয়।
মিলনেচ্ছুক স্ত্রী সাটির দেহ থেকে ফেরোমেন নামের গন্ধ যুক্ত একটি রাসায়নিক বের হয়। সেই গন্ধে পাগল হয়ে ছুটে আসে একাধিক পুরুষ সাপ। সেই সংখ্যা কখনো কখনো এক ডজনও হয়ে থাকে। একে ব্রিডিং বল বলা হয়। প্রতিযোগীরা সঙ্গিনিকে পাওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে লড়াই শুরু করে। একসঙ্গে একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হয় স্ত্রী সাতটি। সঙ্গম শেষ হলেই আসে পুরুষ সাপের আত্ম বলিদান এর পালা।
তবে একটা কথা বলে রাখা ভালো। স্ত্রী গ্রীন এনাকোন্ডা সঙ্গীকে খায় নিজে বাঁচার জন্য নয়। তার সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর জন্য। সাত মাস পর স্ত্রী সাপটি ২০ থেকে 40 টি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যে স্ত্রী সাপ তার সঙ্গীকে খায়, তার বাচ্চার ওজন যারা খায় না, তাদের বাচ্চার ওজনের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি এবং বাচ্চা বেঁচে থাকার হার ৯০ শতাংশ।
গ্রীন এনাকোন্ডার দু’টি ভাগ আছে। আগে বিজ্ঞানীরা গ্রীন এনাকান্ডা কে একটি প্রজাতি বলে মনে করতেন। পরে দেখা যায় ইকুয়েডরের আমাজন এলাকায় থাকা সবুজ এনাকোন্ডার সঙ্গে দক্ষিণ আমাজনের অববাহিকার সবুজ অনাকোন্ডার জিনগত তফাৎ রয়েছে। তার ভিত্তিতেই বিভাজন করা হয়েছ।
ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের তথ্য অনুসারে, সবুজ অনাকন্ডা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ। একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে ভারী সাপের ওজন ছিল ২২৭ কেজি, লম্বা ছিল ৮.৪৩ মিটার এবং প্রস্তে ১.১১ মিটার।
এনাকোন্ডা ছাড়াও বেল প্রজাতির স্ত্রী ব্যাঙের মধ্যেও সেক্সুয়াল ক্যানিবডিজম লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত যোনি মিলনের জন্য পুরুষ ব্যাঙকে আকৃষ্ট করে স্ত্রী ব্যাঙ। কিন্তু মিলনের ঠিক আগের মুহূর্তে তার মন বদলে যেতে পারে।
সে পুরুষ ব্যাঙের সঙ্গে মিলিত হবে বলে ভেবেছিল তাকেই শিকার করে বসে। বেল প্রজাতির স্ত্রী ব্যাংঙ যৌন মিলনের আগেই শুধু নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে যৌন মিলন চলাকালীনও পুরুষ ব্যাংকে গিলে ফেলে। স্ত্রী ব্যাঙ যৌন মিলনের পর পুরুষাঙ্গীর সঙ্গে এমন আচরণই করে থাকে এই প্রজাতির স্ত্রী ব্যাংঙটি।
— রহস্যময় বিজ্ঞান








