ক্রীড়া ডেস্কঃ ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে কালো মেঘ। কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অনড় অবস্থানের কারণে আসরটি এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে সংহতি প্রকাশ করে পাকিস্তানও নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের শীতলতা এখন খেলার মাঠেও স্পষ্ট। বিশেষ করে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ঢাকা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলে। তবে আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়া সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঢাকা যদি ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকার করে বিশ্বকাপ বর্জন করে, তবে পাকিস্তানও এই মেগা ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দুটি বড় দল অংশ না নিলে টুর্নামেন্টটি বাণিজ্যিক ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আইসিসির কাছে সময় চেয়েছেন। আজই বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে ক্রিকেটারদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিসিবির একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ সিনিয়র ক্রিকেটার ভারতের মাটিতে খেলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, মাঠের লড়াইয়ে রাজনৈতিক প্রভাব আসা উচিত নয়।
আইসিসি তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে, রাজনৈতিক কারণে সূচি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। এমনটি করা হলে ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্টগুলোর শৃঙ্খলা ও গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হবে। আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশ না খেললে তাদের পরিবর্তে অন্য কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা। বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ—হয় দাবি প্রত্যাহার করে মাঠে নামা, অথবা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়া। আজ ঢাকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ বিশ্বকাপের ভাগ্য। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন ঢাকার সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দিকে।








