“স্বামীজি! এমন কোনো পবিত্র মন্ত্র লিখে দিন, যাতে আমার বাচ্চারা রাতে ক্ষুধায় কাঁদা বন্ধ করে।”
সাধু কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর উঠে নিজের কুটিরের ভেতরে গেলেন। একটি হলুদ কাপড়ে একটি মন্ত্র লিখে সেটিকে লকেটের মতো বেঁধে সেই মহিলার হাতে দিলেন।
তারপর সাধু বললেন—
“এই মন্ত্রটি বাড়িতে সেই জায়গায় রাখবে, যেখানে সৎ উপার্জনের টাকা রাখো।”
মহিলা খুশি হয়ে চলে গেল।
সেদিন ঈশ্বরের কৃপায় তার স্বামীর আয় ভালো হলো এবং বাচ্চারা খাবার পেল। রাতটা শান্তিতে কেটে গেল।
পরের দিন ভোরে তারা বাড়ির আঙিনায় টাকায় ভরা একটি থলে পেল। সেই থলেতে টাকার পাশাপাশি একটি চিরকুটও ছিল, তাতে লেখা—
“এই টাকায় কোনো ব্যবসা শুরু করো।”
এই কথামতো সেই মহিলার স্বামী একটি ছোট দোকান ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করল। ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়তে লাগল, দোকানও বাড়তে লাগল। এখন যেন টাকার বৃষ্টি শুরু হলো।
একদিন স্বামীর উপার্জন তিজোরিতে রাখতে গিয়ে সেই মহিলার চোখ পড়ল সেই মন্ত্র লেখা কাপড়টির ওপর।
সে ভাবতে লাগল—
“না জানি সাধু মহারাজ এমন কী মন্ত্র লিখেছিলেন, যে আমাদের সব দারিদ্র্য দূর হয়ে গেল!”
ভাবতে ভাবতে সে কাপড়টি খুলে ফেলল।
সেখানে লেখা ছিল—
“যখন টাকার অভাব দূর হয়ে যাবে, তখন সব টাকা তিজোরিতে লুকিয়ে না রেখে কিছু টাকা সেই সব বাড়িতে দিও, যেখান থেকে রাতে ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্নার শব্দ শোনা যায়!”
আমরা যেন সুসময়ে, দুঃসময়ের কথা ভুলে না যাই।।।








