নিজস্ব প্রতিবেদন
দুনিয়ার ব্যস্ততা মানুষকে প্রতিনিয়ত ছুটিয়ে নিয়ে চলে প্রাপ্তির পেছনে, সাফল্যের পেছনে, আরও একটু স্বাচ্ছন্দ্যের পেছনে। অথচ সেই ছুটে চলার ভিড়ে কখনো কখনো আড়ালে পড়ে যায় নিজের হৃদয়, জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং অনন্ত জীবনের কথা। সেই আত্মজিজ্ঞাসার জায়গা থেকেই পাঠকের সামনে আসছে তরুণ লেখক ও কলামিস্ট জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ানের নতুন বই ‘মোহমুক্ত হৃদয়’।
আগামী মঙ্গলবার ইসলামী বইমেলায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বইটি। অকীল প্রকাশনী থেকে প্রকাশিতব্য ‘মোহমুক্ত হৃদয়’-এ দুনিয়ার প্রতি মানুষের অতিরিক্ত আসক্তি, জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব, পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি এবং আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফে সালেহিনের জীবনদর্শনের আলোকে লেখক পাঠককে নিয়ে যেতে চেয়েছেন এমন এক অন্তর্লোকে, যেখানে দুনিয়া থাকবে জীবনের প্রয়োজন হিসেবে—কিন্তু হৃদয়ের চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষা হয়ে উঠবে না।
সহজ, প্রাঞ্জল ও হৃদয়স্পর্শী ভাষায় লেখা বইটি পাঠককে শুধু কিছু কথা পড়াবে না; বরং নিজের জীবন ও অন্তরের দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ করে দিতে চায়। আমরা কী নিয়ে ব্যস্ত, কীসের পেছনে ছুটছি, জীবনের প্রকৃত সাফল্য কোথায় এবং ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর পর আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে—এমন কিছু মৌলিক প্রশ্নের সামনে পাঠককে দাঁড় করানোই বইটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
‘মোহমুক্ত হৃদয়’-এর ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে আত্মশুদ্ধি। দুনিয়াকে ছেড়ে নয়, বরং দুনিয়ার মধ্যেই থেকে তার মোহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার এক জীবনদর্শন তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বইটিতে। মানুষের অন্তর যখন পার্থিব প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাবের বাইরে গিয়ে তার চিরস্থায়ী গন্তব্যের কথা স্মরণ করে, তখনই জীবনের অনেক পরিচিত দৃশ্য নতুন অর্থ পেতে শুরু করে বইটি সেই উপলব্ধির পথেই পাঠককে আহ্বান জানায়।
জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান বর্তমানে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি নিয়মিত কলাম ও প্রবন্ধ রচনা করে আসছেন। ইতিপূর্বে তাঁর একাধিক বই পাঠকমহলে সাড়া ফেলেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘নিশীতের নূর’। নতুন বই ‘মোহমুক্ত হৃদয়’-এর মধ্য দিয়ে লেখক তাঁর চিন্তা, পাঠ-অভিজ্ঞতা ও জীবনবোধের আরও একটি অধ্যায় পাঠকের সামনে তুলে ধরছেন।
লেখকের লেখালেখিতে ধর্মীয় ভাবনা ও জীবনঘনিষ্ঠ উপলব্ধির পাশাপাশি আত্মজিজ্ঞাসার একটি স্বতন্ত্র প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ‘মোহমুক্ত হৃদয়’ সেই ধারাকেই আরও বিস্তৃত করেছে। বইটি পাঠকের হাতে পৌঁছে দিয়ে লেখক কেবল পাঠ নয়, পাঠ-পরবর্তী ভাবনা ও সংলাপকেও গুরুত্ব দিতে চান।
বইটি নিয়ে পাঠকের মতামত, পরামর্শ ও গঠনমূলক প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন লেখক। পাঠের পর কোনো অনুভূতি, পরামর্শ কিংবা সংশোধন-সংক্রান্ত মতামত থাকলে পাঠক সরাসরি লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। লেখকের প্রত্যাশা, পাঠকের আন্তরিক প্রতিক্রিয়া তাঁর ভবিষ্যৎ লেখালেখিকে আরও সমৃদ্ধ ও পরিণত করতে সহায়ক হবে।
ইসলামী বইমেলায় ৬৩ নম্বর স্টলে পাওয়া যাবে ‘মোহমুক্ত হৃদয়’। পাশাপাশি অনলাইনেও বইটি সংগ্রহ করা যাবে রকমারি ডটকম, ওয়াইফি লাইফ, আমারবই ডটকম ও নফিউন ডটকম থেকে।
জীবন কখনো কখনো মানুষকে অনেক দূরে নিয়ে যায়, অথচ নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ‘মোহমুক্ত হৃদয়’ সেই দূরত্বটুকু ঘোচানোর একটি সাহিত্যিক প্রয়াস—দুনিয়ার কোলাহলের ভেতর দাঁড়িয়ে হৃদয়কে তার প্রকৃত ঠিকানার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এক নীরব আহ্বান।








