সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
দেশের মেধাবীদের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এ উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ৫৬ দিনের মাথায় বাদ দিয়ে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ প্রদানকে নিয়ে আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় পাঠদানসহ যাবতীয় কার্যক্রম অচল, ১৫ দিনের অচলাবস্থার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে তিন মাস হারানোর পথে। এ অবস্থায় এরকম একটি গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রহস্যজনক ভুমিকায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে এ অচলাবস্থা নিরসনে সরকার প্রধান হিসাবে প্রধান মন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
০৫ অক্টোবর ২০২৬ গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতেতে উপরোক্ত দাবি জানানো হয়। ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর ও যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলনেই আটকে গেছে তাঁদের পরীক্ষা, পাঠদানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম। ইতিমধ্যে অন্তত ছয় বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। ক্লাসও বন্ধ। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। তবু আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যোচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের দাবি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম শিক্ষার্থীসহ সকলের কথা সরাসরি শুনতেন। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের সুবাদে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। আবার চুয়েটের বাইরে থেকে উপাচার্য নিয়োগ, মাত্র ৫৬ দিনের মাথায়, কোনো কারণ ছাড়াই উপাচার্যকে সরানো, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বেশ ‘বিতর্ক’ থাকলেও তাকে চুয়েটে নিয়োগ প্রদান করে পরিস্থিতিকে জঠিল করা হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব নিলেও ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। আবার অধ্যাপক সায়েম বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানকালে তাকে না জানিয়ে বা কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি সম্ম্মানজনক ও নহে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্টানে মেধা ও জ্ঞানের চর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। মেধাবীদের যোগ্য সম্মান ফিরিয়ে আনতে হবে। এর বাইরে কারো ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দের গন্ডি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্টাতে রাজনৈতিক ও পেশি শক্তির চেয়ে জ্ঞান চর্চার বিষয়কে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।








