(মোহাম্মদ সোহেল)
গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনাকে সাধারণ সংঘাত বললে ভুল হবে। এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল, যেখানে প্রতিটি দল নিজ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এনসিপি, বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-সবাই এই সংকট থেকে লাভবান হওয়ার ফন্দি আঁটছে। আসুন দেখি, কে কী পেল আর কে হারাল। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এনসিপি নতুন দল হওয়ায় জনসমর্থন বাড়ানোর তাগিদ ছিল। তাদের ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি সফল হয়েছে, কারণ: সংঘাতের মাধ্যমে তারা মিডিয়ার শিরোনামে চলে এসেছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়ে তারা ‘সরকারবিরোধী’ ইমেজ তৈরি করেছে। এনসিপি চায় সরকারকে চাপে রাখতে, কিন্তু একই সাথে নিজেদেরকে ‘বিকল্প শক্তি’ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে। বিএনপির মূল এজেন্ডা ছিল নির্বাচনের দাবি। কিন্তু গোপালগঞ্জের পর তারা এখন সংঘাত ও সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের আসল ইস্যু ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। বিএনপি দুটি পথে হাঁটতে পারে: ১. এনসিপির সাথে জোট বেঁধে সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারে। ২. অথবা, এনসিপিকে ‘সরকারের সহযোগী’ বলে প্রচার করে নিজেদের ভোটারদের ধরে রাখতে পারে। অন্য দিকে আওয়ামী লীগ সরাসরি এই সংঘাতে জড়িত না থাকলেও তারা লাভবান হচ্ছে: এনসিপি ও বিএনপির দ্বন্দ্বে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ দুর্বল হচ্ছে। ‘অস্থিতিশীলতা’র অজুহাতে নির্বাচন পেছানো সহজ হবে। বিএনপি যদি এনসিপির সাথে হাত মেলায়, তাহলে আওয়ামী লীগ তাদের ‘জামায়াত-সমর্থিত’ বলে বদনাম করতে পারবে। এদিকে জামায়াতের অবস্থান সবচেয়ে নাজুক। বিএনপি যদি এনসিপির দিকে ঝুঁকে, তাহলে জামায়াত প্রান্তিক হয়ে পড়বে। আবার সরকার চাইলে এই সংঘাতকে ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ’ বলে জামায়াতের ওপর কঠোর হতে পারে। সরকারের জন্য এটি একটি সুযোগ: কারণ-নির্বাচনের চাপ কমেছে, কারণ এখন আলোচনা ‘সংঘাত’ ও ‘নিরাপত্তা’ নিয়ে। এনসিপিকে ব্যবহার করে বিএনপিকে কোণঠাসা করা যাচ্ছে।-আন্তর্জাতিক মহলে ড. ইউনূসের দলকে ‘সরকারবিরোধী’ দেখালে চাপ কমবে। এনসিপি যদি এই গতি ধরে রাখে, তাহলে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। বিএনপির নির্বাচনের দাবি থেকে সরে গেলে তাদের ভোটাররা হতাশ হতে পারে। অন্যদিকে সরকার চাইলে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখিয়ে সময় কাটানো সম্ভব। গোপালগঞ্জের ঘটনা কোনো আকস্মিক সংঘাত নয়, বরং রাজনীতির এক পরিকল্পিত খেলা। এখানে প্রতিটি দল নিজেদের স্বার্থে লাফিয়ে পড়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই সংঘাত আরও বাড়তে পারে, কারণ ক্ষমতার লড়াইয়ে কেউই পিছিয়ে যেতে চাইবে না। সাধারণ মানুষের জন্য এটা কি ভালো কিছু বয়ে আনবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Views: 354
Related