নব্বইয়ের দশকের একজন ছাত্রনেতাকে পাওয়া গেল, যিনি বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রদের চিন্তাভাবনা পুরোপুরিভাবেই রিড করতে পেরেছেন।
সংসদে দাঁড়িয়ে গতকাল তিনি সবাইকে সতর্ক করেছেন, এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কাছে মাস্তানী কিংবা পেশিশক্তির রাজনীতি আর খাবে না!
রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, হেলমেট—এসবের রাজনীতি ৫ আগস্টে কবর হয়ে গেছে। এখন আর ক্যাম্পাসগুলোতে এ ধরনের অস্ত্রের ঝনঝনানির রাজনীতি চলতে পারে না। এই জেনারেশনের ছেলে-মেয়েরা এমন রাজনীতি আর চান না। ফ্যাসিস্ট শাসনামলের পর আমাদের ক্যাম্পাসগুলোয় কেন এখনো এমন রাজনীতির মহড়া চলবে!
জ্বালানি বিষয়ে আমরা যেভাবে সংসদে সরকারী দল এবং বিরোধীদল মিলে কমিটি করেছি, সবার কাছে প্রশংসানীয় হয়েছে, প্রয়োজনে আমরা ছাত্ররাজনীতি নিয়েও আলাপ, আলোচনা করতে পারি। কমিটি করতে পারি।
রাজনীতি সৌন্দর্য হলো ডিবেট। সেখানে থাকবে আলোচনা এবং সমালোচনা। সেই সমালোচনাও হবে গঠনমূলক। এই প্রত্যাশাই জনগণ আমাদের কাছে করে।
আগামীতে ছাত্ররাজনীতি হতে হবে জ্ঞাননির্ভর, ছাত্রবান্ধব কাজকর্মের মাধ্যমে।
শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; ৯০-র দশকে রাজপথ কাঁপানো একজন ছাত্রনেতা।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। একাধিকবার ডাকসু সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাময়িক সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত ভিপির দায়িত্বও পালন করেছেন। সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে তিনি সংসদে গেছেন। যদিও চলতি সংসদে অতীত রেকর্ড ব্রেক করেছেন এনসিপির হান্নান মাসুদ।
লক্ষীপুর-৩ আসনের এমপি। নিজের এলাকায় জনপ্রিয়তা ‘আকাশচুম্বী’। নির্বাচনে আমি দেখেছি এই একমাত্র লোক (আরও কয়েকজন হয়ত থাকতে পারে) ডোর-টু-ডোর হেঁটে হেঁটে নির্বাচনী প্রচারণা করেছেন। সকলের সঙ্গে মিশেছেন, কাছে থেকে সমস্যার কথা ও সমাধানে পরামর্শ নিয়েছেন।
ম্যান-টু-ম্যান রিচ করার ইমপ্যাক্ট হিউজ। যা ভোটের মাঠেই প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণাকে উনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
বিএনপির পরীক্ষিত নেতাদের মধ্যে উনি অন্যতম। হাসিনার শাসনামলে বহু হামলা-মামলার শিকার হয়েছে বাট কখনো কম্প্রোমাইজ করেননি। উনার বাড়িঘর পর্যন্ত একাধিকবার ভাঙচুর হয়েছে।
এই ভদ্রলোকের নাম শুনলে মানসপটে যে চিত্র ভেসে ওঠে, হাসিনা আমলে আদালত অঙ্গনের সেই ঐতিহাসিক দৃশ্যটি, ভুয়া মামলায় তাকে আদালতে তোলার আগে যখন দু’পাশ ঘিরে রেখে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছিলো, তখন তামিল হিরোদের মতো নির্ভীক হেঁটে চলছেন। পরনে স্যুট, গলায় মাফলার।
Views: 188
Related