জামায়াত আমীর প্রস্তাব দিয়েছিলেন জ্বালানি নিয়ে বর্তমান যেই পরিস্থিতি চলছে, সেটা নিরসনে সরকার চাইলে উনারা কিছু প্রস্তাবনা শেয়ার করতে চান।
প্রধানমন্ত্রী যেটা করলেন, শুধু তাদের প্রস্তাবনাই শুনতে চান তা নয়, বরং তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিছেন।
ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে যখন ফিরে আসেন, সেসময় সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি সবাইকে একটা কথা কমন বলেছিলেন, দলের পলিসি নিয়ে আমরা একটি দল আরেক দলের সঙ্গে তর্কে জড়াবো, কিন্তু জাতীয় ইস্যুতো আমাদের এক হয়ে থাকতে হবে। এক টেবিলে বসে আমরা জনগণের কল্যাণে যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি।
এই কথা তিনি বিভিন্ন জায়গাতে বলে আসছেন। আপনারা স্মরণ করলে দেখবেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনে সৌজন্যে বক্তৃতায়ও তিনি বলেছেন, দেশের সকল জনগণ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন, এসংসদকে আমরা যেন জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে কেন্দ্রবিন্দু বানাতে পারি। তর্কবিতর্ক, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আজকে সেই কথারই বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল সংসদে।
জ্বালানি তেল নিয়ে যেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, একচুয়েলি এটা কৃত্রিম। এ কথা বিভিন্ন লেখায় বলে আসতেছি।
অলওয়েজ রিজার্ভ ১৬ দিনের থাকতেছে, এরপর ২ মাসের অগ্রিম চুক্তি সম্পন্ন থাকে। কোনো জাহাজ নির্ধারিত সূচীর বাইরে ১ সপ্তাহে দেরিতে নোঙ্গর ফেললেও কোনো ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্যানিক বায়িং এবং কালোবাজারি সিন্ডিকেটের কারণে।
মন্ত্রী গতকালই এক্সাক্ট ডেইটা দেখালেন দৈনিক কোন তেল কতটুকু সরবরাহ করা হইতেছে। চাহিদার চেয়েও অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এরপরও কেন তেল নিয়ে মানুষের মধ্যে হাহাকার! একেকটি পাম্পে দীর্ঘ লাইন।
থার্টপার্টির মার্কেট সিন্ডিকেট এরা মানুষকে ইনফ্লুয়েন্স করে বাধ্য হয়ে যেন বাড়তি দামে বাইরের মার্কেট থেকে কিনে।
এ কালোবাজারিদের ধরার জন্যই সরকার বিভিন্ন স্ট্রেটেজি নিচ্ছে, কিন্তু কোনটাই পুরোপুরিভাবে কার্যকরী হচ্ছে না।
আজকে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সরকার দল থেকে ৫জন ও বিরোধীদলীয় নেতাকে আহবান করেছেন ৫জনের তালিকা দিতে, তাদের সমন্বয় একটি কমিটি গঠন করা হবে, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে এ কমিটি পলিসি নির্ধারণ করবে। সরকার তাদেরকে সব ধরনের সহয়তা করবে।
তারেক রহমান উনার বক্তব্য শেষ করেছেন এ বলে, দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে যেকারো সঙ্গে আলোচনা বা পরামর্শ গ্রহণ করতে অলওয়েজ প্রস্তুত তিনি।
জামায়াত আমীর এ ‘অবিস্মরণীয় সিদ্ধান্তের’ জন্য ধন্যবাদ জানান তারেক রহমানকে। হাসনাত আবদুল্লাহসহ ৫ জনের নাম উনি ঘোষণা করেন তাদের পক্ষ থেকে।
দেশের জনগণের স্বার্থে সরকারি দল ও বিরোধীদলের মধ্যে এ মিথস্ক্রিয়াকে অসাধারণভাবে এড্রেস করেছেন স্পিকার-
সরকার দল এবং বিরোধীদল যদি এভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হয়, দেশের যেকোনো সমস্যা সমাধান সম্ভব। আপনাদের আজকের বক্তব্যে শুনে দেশের মানুষের মনে আশার সঞ্চার হবে। ধন্যবাদ আপনাদেরকে।
Views: 153
Related